“তখন আইয়ুব খান ক্ষমতায়। খুলনায় একটি হার্ডবোর্ড কারখানার মালিক ছিলেন এক বাঙালি। সরকার হার্ডবোর্ডের দাম দেয় কমিয়ে। ক্রমেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে ওই বাঙালি পাকিস্তানিদের কাছে কারখানা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এভাবে কৌশলে বাঙালি ব্যবসায়ীদের পুঁজি ধ্বংস করা হতো তখন। ফলে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পথে বসেন। এরপরই ৬ দফার ডাক দেন শেখ মুজিব। বাঙালির মুক্তির সনদ। প্রথমদিকে আওয়ামী লীগের অনেকেই ৬ দফাকে গ্রহণ করতে চাননি। কিন্তু শেখ মুজিব তার পরিকল্পনা ও কাজে ছিলেন অটল। বড়দের আলাপচারিতায় তার কথা আমরা শুনতাম। রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম না। লেখাপড়া ও খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। তবে রাজনৈতিক সচেতন ছিলাম। বন্ধুদের আড্ডায় ও আলোচনায় উঠে আসত দেশের নানা বৈষম্য ও বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গ। খুলনায় ছাত্রনেতা ছিলেন জাহিদ ও নজরুল। আন্দোলন সংগ্রামে তাদেরই অ্যাকটিভ থাকতে দেখেছি। পরে পাকিস্তান সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। তারা ভেবেছিল সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ খুব বেশি সিট পাবে না। কেননা ইলেকশন করার কথা ছিল ভাসানী ন্যাপেরও। কিন্তু পাকিস্তানিদের সব চিন্তাকে ভুল প্রমাণ করেন ভাসানী সাহেব। তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকে পথ ছেড়ে দেন বঙ্গবন্ধুকে। ফলে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তাই ইতিহাসে ভাসানীর অবদানও কম ছিল না। তিনিও বড় নেতা ছিলেন, স্বাধীনতার কথাও বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর জায়গা অনেক উঁচুতে। কিন্তু ইতিহাসে তো সকলের অবদানের কথাই তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে নির্মোহ ও নির্ভুল ইতিহাস কীভাবে রচিত হবে?” একাত্তর পূর্ববর্তী নানা ঘটনাসহ নিজের মত এভাবেই তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আজাদ (বীরপ্রতীক)। তার ডাক নাম দারা। এক সকালে তার বাড়িতে বসেই দীর্ঘ আলাপ চলে। আলাপচারিতায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।


 

Post a Comment

Previous Post Next Post